স্টাফ রিপোর্টার: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি দেশকে বিশে^র দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। ২০২১ সালের পর বাংলাদেশে বেকারত্ব কমে যাবে। এ দেশেই অনেক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। আমাদের সন্তানদের আর মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর যেতে হবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশে^র একটি উন্নত রাষ্ট্র। আজকে যে শিশুটি জন্ম নিচ্ছে সে উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিক হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ২০২১ ও ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
লাকসাম উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ‘যার জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের ঘর, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন, রবি প্রণোদনার আওতায় সার ও বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি, দুস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, বিভিন্ন ভাতা, বিভিন্ন ঋণ, এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল এবং নিয়মিত এবং নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ছাগল বিতরণ ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে সমবায় সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। কোনো অপশক্তি এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করছেন। ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের জীবন যাত্রার মান হবে অনেক বেড়েছে। এই দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, গ্রাম হবে শহর- প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। বর্তমান সরকারের প্রশংসনীয় এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশে আজ যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন তারা ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর সপরিবারকে হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। সেদিন তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছে। দেশে সামরিক শাসন কায়েম করেছে। ক্ষমতায় এসে বিএনপি নামক দল গঠন করেছে। আজ তারা গণতন্ত্রের দোহাই দিচ্ছেন। বিএনপির মূখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।
মন্ত্রী বলেন, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আন্দোলনের নামে বাস-ট্রেনে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা বিএনপির কাজ। বর্তমানে ওই দলটি সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। যে কোনো মূল্যে এ দেশের জনগণ তাদের সকল ষড়যন্ত্র অঙ্কুরে বিনাশ করে দেবে।
লাকসাম পরিষদ চত্ত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহব্বত আলী। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজালা রানী চাকমা ও গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন শামীমের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম (বার) বিপিএম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সাইফুল আলম।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লাকসামের মুদাফরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুর রশিদ সওদাগর, উত্তরদা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারনুর রশিদ, আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, কান্দিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, লাকসাম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পড়শী সাহা, কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব আলী, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, লাকসাম পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাবারক উল্যাহ কায়েস, লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম রতন, দলিলুর রহমান মানিক, লাকসাম পৌরসভা কাউন্সিলর আবদুল আলিম দিদার, খলিলুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব খান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহীন পরিবারের মাঝে বরাদ্দকৃত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল, কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ যেমন-পাওয়ারটিলার, সেচযন্ত্র, বীজ, সার এবং হতদরিদ্রদের মাঝে বিভিন্ন অনুদানের চেক বিতরণ করেন।